বিদ্যুচ্চালিত বাহনকে পরিবেশ সারচার্জের আওতামুক্ত রাখতে চায় বিআরটিএ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির নামে একাধিক যানবাহন নিবন্ধিত হলে দিতে হবে পরিবেশ সারচার্জ। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছর থেকে যানবাহন মালিকদের কাছ থেকে এই সারচার্জ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির নামে একাধিক যানবাহন নিবন্ধিত হলে দিতে হবে পরিবেশ সারচার্জ। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছর থেকে যানবাহন মালিকদের কাছ থেকে এই সারচার্জ আদায় শুরু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। তবে সংস্থাটি চাইছে, বিদ্যুচ্চালিত যানবাহনকে পরিবেশ সারচার্জের আওতামুক্ত রাখতে। পরিবেশবান্ধব যানবাহন ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহী করতেই এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বিদ্যুচ্চালিত যানবাহনের ওপর পরিবেশ সারচার্জ আরোপ না করার বিষয়ে এরই মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছে বিআরটিএ। এ বিষয়ে এনবিআর সদস্য (আয়কর নীতি) এ কে এম বদিউল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিষয়টি আগামী অর্থবছরের বাজেটে বিবেচনা করা হবে।’

জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে দেশে পরিবেশবান্ধব যানবাহন প্রবর্তনে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে, ২০৩০ সাল নাগাদ দেশের সড়ক পরিবহন খাতে ব্যবহৃত অন্তত ৩০ শতাংশ মোটরযান বিদ্যুচ্চালিত হিসেবে রূপান্তর করতে চায়। এজন্য বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি উৎপাদন এবং নিবন্ধন ও চলাচলের জন্য নীতিমালা করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক যান চার্জিংয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছে নির্দেশিকা। রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) মাধ্যমে বিদ্যুচ্চালিত বাস আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বেসরকারি খাতকেও এই বাজারে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

ইলেকট্রিক মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ও চলাচল নীতিমালায় বিদ্যুচ্চালিত যানবাহনের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে ‘এক বা একাধিক মোটরের সাহায্যে চালিত মোটরযান, যার চালিকাশক্তি সেই বৈদ্যুতিক চার্জ বা সংযুক্ত ব্যাটারি’। গণপরিবহন হিসেবে এসব মোটরযান পরিচালনার জন্য বিআরটিএ থেকে রেজিস্ট্রেশন ও রুট পারমিট নিতে হবে। সময়ে সময়ে হালনাগাদ করতে হবে ফিটনেস সনদ। ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন এবং ২০২২ সালের সড়ক পরিবহন বিধিমালা বিদ্যুচ্চালিত মোটরযানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ইলেকট্রিক মোটরযানের লাইফটাইম কত হবে, তা সরকার নির্ধারণ করে দেবে। লাইফটাইম শেষ হলে সেই মোটরযানের নিবন্ধন বাতিল ও স্ক্র্যাপ করা হবে।

আরও